Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

শিরোনাম
আটগ্রাম সাজিদ রাজার বাড়ীর চৌদ্দ গৌম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ
স্থান

৩নং কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদ,  উপজেলা: জকিগঞ্জ, জেলা: সিলেট।

কিভাবে যাওয়া যায়

কালিগঞ্জ-সিলেট যাওয়ার পথে আটগ্রাম বাসষ্টেশনের পূর্ব উত্তর দিকে সাজিদ রাজার বাড়ী পায়ে হেটে, রিক্সা যোগে, সিএনজিসহ যে কোন যানবাহন দ্বারা যাওয়া যায়। জকিগঞ্জ-সিলেট ও সিলেট-জকিগঞ্জ যাওয়া-আসার পথে সাজিদ রাজার বাড়ী রিক্সা, সিএনজি, বাইক ইত্যাদি দিয়ে যাওয়া যায়।

যোগাযোগ

0

বিস্তারিত

৩নং কাজলসার ইউনিয়নের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হলো আটগ্রামস্থিত চারিগ্রামে ঐতিহাসিক সাজিদ রাজার বাড়ী (বড় বাড়ী) চৌদ্দ গৌম্বুজ বিশিষ্ট জামে মসজিদ । উল্লেখ্য বড়বাড়ী জামে মসজিদ নামে পরিচিত

জকিগঞ্জে কালের সাক্ষী সাজিদ রাজার বাড়ি
সাজিদ রাজার বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ১৮ শতকের প্রথম দিকে জমিদার সাজিদ রাজা কর্তৃক নির্মিত হয় এই বাড়িটি।

ঐতিহাসিকভাবে সিলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সেই কীর্তিগাথা আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সিলেটের আনাচে-কানাচে। তবে অযত্ন আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো। পরিত্যক্ত সেসব চিহ্ন ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আজও সোনালি অতীতের গৌরবগাথা প্রচার করছে। সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়নের সুরমা নদীর তীরবর্তী চারিগ্রামে রয়েছে ঐতিহাসিক মিরাসদার সাজিদ রাজার বাড়ি। তা এখন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। বাড়িটি সংস্কার করে গড়ে তোলা যেতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। সাজিদ রাজার দানকৃত জায়গায় গড়ে উঠেছে আটগ্রাম বাজার, আটগ্রাম ইউনিয়ন হাসপাতাল, ডাক বাংলো, মাদ্রাসা, স্কুলসহ রাস্তাঘাট। শত শত বছরের অযত্ন-অবহেলায় চিহ্ন গায়ে মেখে এখনও দাঁড়িয়ে আছে সাজিদ রাজার প্রিয় বাসভবনটি। প্রায় শত ফুট দৈর্ঘ্য ও পনেরো ফুট প্রস্থের সাজিদ রাজার সখের প্রাসাদটির ভেতরে এখন সাপ, ব্যাঙ ও পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাস আর বাইরে ক্ষয়ে যাওয়া ভবনে গজিয়ে উঠেছে নানা প্রজাতির পরগাছা উদ্ভিদ। বাড়ির আঙিনায় চরানো হয় গরু ছাগল।

অবস্থান
সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়নের সুরমা নদীর তীরবর্তী চারিগ্রামে অবস্থিত সাজিদ রাজার বাড়ি। জকিগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে গণ্য করা হয় আটগ্রাম বাজারের সন্নিকটে সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত এ জমিদার বাড়িটিকে।

ইতিহাস
১৮ শতকের প্রথম দিকে জমিদার সাজিদ রাজা জকিগঞ্জের উপজেলা ও এর আশপাশ শাসন করতেন। প্রাজাদের দেখভাল করার জন্য কাঠ দ্বারা নির্মিত গাড়ি ও হাতিতে সওয়ার হয়ে পুরো রাজ্য ঘুরে বেড়াতেন। তার দ্বারা নির্মিত বাড়ি, বিচারালয়, মসজিদ ও পুকুর এখনও ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

১৩ চালা টিনের ঘর
প্রায় ১৫ একর জমির উপর এই বাড়িতে রয়েছে ১৩ চালার একটি টিনের ঘর। ব্রিটিশ আমলে জমিদার সাজিদ রাজার বোনের উত্তরাধিকারী তার বাবা মৌলভী দেওয়ান দিগার উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও তার দুই চাচা দেওয়ান আজিজ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মইন উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শখের বশে এ ঘর তৈরি করেন। তৎকালীন ১৩ হাজার টাকা মজুরিতে কলকাতার মিস্ত্রিরা তেরটি চাল তৈরি করেন। টিন এবং কাঠের কারুকার্যমণ্ডিত চালাগুলো। কাঠ-বাঁশের খানার বেড়ার ওপর চুনসুরকির ব্যবহার করা হয়েছে যা কিনা প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন বহন করে। ঘরগুলোর পুরো ছাদ ও খুঁটিগুলো কাঠের তৈরি এবং মেঝে পাকা। এক কক্ষের বিশাল একটি ঘর বৈঠকখানা হিসেবেই ব্যবহার হত যেখানে একসময় হাসন রাজাসহ জমিদারদের আড্ডা বসত।

মসজিদ
ধর্মপ্রাণ সাজিদ রাজা নামাজ পড়ার সুবিধার্তে ১৭৪০ খৃষ্টাব্দে তার বাড়ির সামনে পিলার ও গম্ভুজের তৈরী সুদৃশ্য মসজিদটি নির্মাণ করেন। একটি উঁচু ভিত্তির উপর মসজিদের মূল স্থাপনাটি প্রতিষ্টিত হওয়ায় মুসল্লীদের উঠানামার জন্য তেরী করা হয় সুদৃশ্য ও মজবুত সিঁড়ি।

পুকুর
বরাক নদীর উজান ঢলে ভেসে যাওয়ার জন্য জনগণের মাঝে পানির জন্য হাহাকারের সৃষ্টি হত। পানির হাহাকার দূর করার জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় ৮ একর ভূমির উপর খনন করেন রাজা।